মুভি রিভিউ, মুভি নিউজ আপডেট চ্যানেল।
Last updated 1 year, 11 months ago
Journalist Sorwar Alam's official Telegram channel.
YouTube.com/SorwarAlam
fb.com/BanglaSAT
twitter.com/Sorwar_Alam
Last updated 2 months, 1 week ago
ডেইলি চাকরীর খবর, সিলেবাস, বিগত প্রশ্ন:
www.gktodaybengali.in
Last updated 3 weeks, 1 day ago
মোহাম্মদ দেইফ শহিদ হয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছে আবু উবায়দা।
চাইনিজ এআই DeepSeek-কে প্রযুক্তিগত কারণে খারিজ করা সম্ভব না হলেও এর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ করা হয় যে, এটা ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সঠিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয় না।
এটাকে "মুক্ত বিশ্বে" উন্নত প্রোগ্রামগুলোর সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে দাবি করা হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অধীনে উন্নত প্রযুক্তিকে বিশ্বাস করা যায় না, এমনকি এটা যদি বিজ্ঞাপন অনুযায়ীও কাজ করে এবং প্রতিযোগীদের তুলনায় এটাকে যদি অনেক কম খরচেও তৈরি হয়।
আমি কখনো এই প্রোগ্রামগুলোর কোনোটা ব্যবহার করিনি এবং জানি না এগুলো কীভাবে কাজ করে। তবে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ব্যবহারকারী তাদের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও অনুরূপ প্রোগ্রামগুলোর উত্তর পোস্ট করেছেন। যেমন, "ফিলিস্তিনিরা কি স্বাধীনতার যোগ্য?" এবং "ফিলিস্তিনিরা কি ন্যায়বিচারের যোগ্য?"
এগুলোর উত্তর বিচার করে মনে হয়, DeepSeek এদের মধ্যে সবচেয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত। তিয়ানআনমেন সম্পর্কে কিছু না বলার মধ্য দিয়ে অন্তত এটা এর "মুক্ত" প্রতিযোগীদের ভ্রান্ত প্রচারণা ও আগ্রাসী বক্তব্য এড়িয়ে চলে।
--- মুঈন রাব্বানি, ফিলিস্তিনি লেখক ও গবেষক।
কী একটা দিন আসলো যে আমাকে আসিফ মাহতাব উতসের পক্ষে লিখতে হচ্ছে। উতস সাহেবদের অনেক কিছুকেই আমার অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি মনে হয়। কিন্তু আজকে যেই পোস্ট নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, আমার মতে সেটা তার পোস্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম সমালোচনাযোগ্য একটা পোস্ট।
একে অন্যের (ধর্মীয়) উত্সবে সহযোগিতা করার যে লাইনটা নিয়ে উতস সাহেব আপত্তি করেছেন, সেটাকে অ্যাকচুয়ালি দুই ভাবেই রিড করা সম্ভব। আমরা বলতে পারি, এটা আমাদের সমাজের খুবই স্বাভাবিক একটা চিত্র, যার মাধ্যমে ধর্মে ধর্মে হানাহানির পরিবর্তে সহাবস্থানকে উত্সাহিত করা হচ্ছে।
কিন্তু বিপরীতে যেখানে প্রতি বছরই পূজায় মুসলমানদের অংশগ্রহণ, দোল উত্সবে মুসলমানদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক হয়, সেখানে কেউ বিপরীত ইন্টারপ্রিটেশনও করতে পারে।
অফকোর্স, উত্স সাহেব বরাবরের মতোই এক্সট্রিম ব্যাখ্যাটাই গ্রহণ করেছেন, গরু কুরবানিতে সহযোগিতার কথা টেনে এনেছেন - বর্তমান বিশ্বে এটা করলেই সবচেয়ে বেশি ট্র্যাকশন পাওয়া সম্ভব - কিন্তু আমরা যদি গরু কুরবানিকে এক্সক্লুড করি, তারপরেও এই ধরনের বাক্যের মধ্য দিয়ে "ধর্ম যার যার, উত্সব সবার" আদর্শকেই উত্সাহিত করা হয়।
ছোটদের বইয়ের কোনো বাক্যই নেগলিজিবল না। প্রতিটা বইয়ে এই ধরনের আপাত নির্দোষ বক্তব্যের উপস্থিতি আপনার শিশুর মনোজগতকে সেভাবেই গড়ে তুলবে।
আপনি যদি "ধর্ম যার যার, উত্সব সবার" থিওরিতে বিশ্বাস করেন, তাহলে এই বাক্যে আপনার আপত্তির কিছু থাকবে না।
কিন্তু আপনি যদি চান আপনার শিশু বড় হয়ে অন্য ধর্মাবলম্বীর বিপদে-আপদে এগিয়ে আসুক, তাদের সাথে সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলুক, কিন্তু তাদের ধর্মীয় উত্সবে অংশগ্রহণ না করুক - তাহওহিদের গুরুত্বটা বুঝুক, তাহলে এই ধরনের আপাত নির্দোষ বাক্য নিয়েও আপনার সচেতন হওয়া দরকার আছে। সেটা আসিফ মাহতাব উতসের মতো অক্ষরবাদী স্টাইলে না হলেও।
লেবাননে যুদ্ধ করা বাংলাদেশীদেরকে নিয়ে টিবিএস একটা ফিচার করেছে। এরকম ছোটখাটো ফিচার অবশ্য বেশ কয়েকটা আছে। কিন্তু কারও উচিত বড় আকারে এটা নিয়ে কাজ করা।
এই টপিকটা নিয়ে আমার বেশ ইন্টারেস্ট ছিল। ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা Navid Hossain ভাইয়ের সাথে কিছুদিন কথাবার্তা হয়েছিল। উনি এরকম এক যোদ্ধার সাথে কথাও বলেছিলেন। তার গল্প আমার সাথে শেয়ার করেছিলেন। বেশ ইন্টারেস্টি। ঐ যোদ্ধার দাবি অনুযায়ী গেরিলা ক্যাম্পে আরাফাতের সাথেও তার দেখা হয়েছিল। আরাফাত সম্ভবত তার পিঠ চাপড়ে দিয়েছিল; মনে নাই পুরোপুরি।
এ ধরনের টপিক নিয়ে সিরিয়াস করার কাজ করার জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনুকূলে থাকা লাগে। গত সরকারের আমলে সেটা ছিল না। এক সাংবাদিক ফ্রেন্ডের সাথে কথা হয়েছিল, উনি জাসদের বড় কোন এক নেতার সাথে এই ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন।
সেই নেতা সে সময় লেবাননে যোদ্ধা পাঠানোর সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু গত সরকারের সময় এই ব্যাপারে কথা বলা তো দূরের কথা, উল্টো সে তাকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিল। স্বৈরাচারের দোসর জাসদ নিশ্চিতভাবেই এখন আর ফিলিস্তিন কজকে ঔন করে না। বরং পারলে তাদেরকে জঙ্গি ট্যাগ দেয়।
বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। তারপরেও কেউ যদি এই টপিকটা নিয়ে জাস্ট মার্কেট ধরার জন্য না, সিরিয়াসলি একটা বড় আকারের বই লিখতে চায়, তাহলে তাকে প্রচুর কষ্ট করতে হবে। ফিল্ডে থাকতে হবে। প্রচুর ঘোরাঘুরি করতে হবে। গ্রামেগঞ্জে গিয়ে যোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, সাবেক এই গেরিলাদের অনেকেরই এখন অসহায় অবস্থা। তাদের সাক্ষাৎকার নিতে গেলে, ছবি সংগ্রহ করতে গেলে কিছু টাকা-পয়সাও খরচ করতে হবে। এত কষ্ট করার পর বই বিক্রি থেকে যে টাকা আসবে, তাতে পোষাবে না।
তারপরেও আমি স্বপ্ন দেখি, কেউ একজন এই টপিকটা নিয়ে বই লিখবে। এই স্মৃতিগুলোকে ইতিহাসে স্থান দিবে। এই যোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা, তাদের অনুপ্রেরণা, তাদের অনুভূতি, তাদের পরবর্তী জীবন, এবং সবচেয়ে বড় কথা, তাদেরকে সেখানে পাঠানো রাজনীতিবিদদের আসল উদ্দেশ্য এবং পরবর্তী জীবনে তাদের পরিবর্তন - সবকিছুই তুলে ধরবে।
এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটা আমার কাছে মুসলমানদের জন্য অনেকটা সেই ক্লাসিক্যাল "ট্রলি প্রবলেম"-এর মতোই মনে হচ্ছে।
যারা জানেন না, ট্রলি প্রবলেম হচ্ছে একটা হাইপোথেটিক্যাল এথিক্যাল প্রবলেম, যেখানে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে একাধিক মানুষকে বাঁচাতে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে একজনের নিশ্চিত ক্ষতি করবেন কি না।
সমস্যাটা এরকম, ধরেন, একটা ট্রলি (বা ট্রাম, বা ট্রেন) গতি হারিয়ে এমনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে যে আপনি কিছু না করলে লাইনের উপর দাঁড়িয়ে থাকা পাঁচজন মানুষ নিশ্চিতভাবে মারা যাবে।
এখন, আপনি বসে আছেন কন্ট্রোল রুমে, যেখানে আপনার শুধু একটা লিভার টানার ক্ষমতা আছে। ঐ লিভার টানলে ট্রলিটা অন্য ট্র্যাকে চলে যাবে, ফলে ঐ পাঁচজন মানুষ বেঁচে যাবে, কিন্তু নতুন ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ নিশ্চিতভাবে মারা যাবে।
এখন আপনি কী করবেন?
১। কিছুই করবেন না, ফলে ট্রলিটা পাঁচজনকে চাপা দেবে।
২। লিভারটা টেনে ট্রলিটাকে অন্য ট্র্যাকে নিয়ে একজনকে হত্যা করে পাঁচজনকে বাঁচিয়ে দিবেন।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে মোটামুটি নিশ্চিতভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। গতবার ট্রাম্পের আমলে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়া, আনরার ফান্ডিং কমিয়ে দেওয়া-সহ অনেকগুলো আনপ্রিসিডেন্টেড পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এবার সম্ভবত আরও ভয়াবহ কিছু হবে। পশ্চিম তীরে চলমান এথনিং ক্লিনজিং আরও গ্রীন সিগন্যাল পাবে, জেরুজালেম এবং আকসার উপর আক্রমণ হবে, এবং এরফলে সম্ভবত সেখানেও গাযার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।
কিন্তু তাই বলে কি হ্যারিসকে ভোট দেওয়া যায়, যেই বাইডেন-হ্যারিস এই গণহত্যায় পুরোপুরি শুধু সমর্থন না, অস্ত্র সরবরাহ, ভেটো প্রয়োগ-সহ সব ধরনের টুল ব্যবহার করে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছে?
সামি হামদি, ইয়াসির ক্বাদি এবং শাদি মাসরিদের মতো ইসলামিক স্কলার/অ্যাক্টিভিস্টরা কোনো পক্ষকেই ভোট না দিয়ে থার্ড পার্টি (গ্রীন পার্টিকে) ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। যদিও এই থার্ড পার্টির জেতার সম্ভাবনা জিরো, কিন্তু অ্যাটলিস্ট এতে নিজের হাত রক্তে রঞ্জিত হবে না। অ্যাটলিস্ট এতে একটা ম্যাসেজ যাবে। এটা হচ্ছে অনেকটা ট্রলি প্রবলেমে কিছুই না করার মতো অবস্থান।
অন্যদিকে মেহদি হাসান - যদিও ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রচণ্ড ভোকাল, কিন্তু পরিষ্কারভাবেই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে - তার বক্তব্য, এত বড় গণহত্যার পরেও মুসলমানদের কামালা হ্যারিসকেই ভোট দেওয়া উচিত, কারণ ট্রাম্প আরও খারাপ। এটা হচ্ছে অনেকটা ট্রলি প্রবলেমের পাঁচজনকে বাঁচানোর জন্য একজনকে হত্যা করার মতো অবস্থান।
যদিও আমাদের অবস্থানে কিছুই আসে-যায় না, দিন শেষে আমেরিকার মুসলমান সিটিজেনদের একটা বড় অংশ তাদের নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করেই ভোট দিবে, কিন্তু নীতিগতভাবে আমি নিজের হাত রক্তে রঞ্জিত না করারই পক্ষে। তাতে আরও বেশি রিস্ক থাকলেও।
এক মতিভাইয়ের পরিবর্তে রিপোর্টটা যদি অন্য মতিভাই করত, তাহলে এই সুযোগে কন্সপিরেসির অভিযোগে চুপ্পুর পাশাপাশি ঐ মতিভাইকেও জয় বাংলা করে দেওয়া যেত। একটুর্জন্যপার্পেয়েগেল। স্যরি।
কেউ চাইলে ঐ মতিভাইয়ের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এই মতিভাইয়ের ছবি পুড়িয়ে আসতে পারে। অতীতে এরকম ঘটনা অনেক ঘটেছে। সার্ফ এক্সেলের উপর ক্ষেপে গিয়ে ইন্ডিয়ানরা একসময় মাইক্রোসফট এক্সেলের রেটিং ১ করে দিছিল। কোন ক্লাসের বইয়ে যেন জোনায়েদ আল-বাগদাদীর ছবির জায়গায় আবু বকর আল-বাগদাদীর ছবি ছাপায় দিছিল। এরকম বিনোদনের দরকার আছে মাঝে মাঝে ?
গাদ্দাফির পতনের কিছুদিন পর এক লিবিয়ানের সাথে কথা হচ্ছিল। লোকটা গাদ্দাফির ট্রাইবের, এবং সিরত শহরের অধিবাসী, যে শহরটা ছিল গাদ্দাফির লাস্ট স্ট্যান্ড।
কথা প্রসঙ্গে সে জানালো, যেদিন গাদ্দাফিকে ধরা হয়েছিল, সেদিন নাকি সেও গাদ্দাফির কনভয়ে ছিল। উপর থেকে যখন ন্যাটো বম্বিং শুরু করে, তখন লাস্ট মুহূর্তে সে পালিয়ে বাঁচে।
শুনে আমি বেশ মুগ্ধ হলাম। কারণ গাদ্দাফির সাথে শেষপর্যন্ত মাত্র শ'দুয়েক মানুষ ছিল। এদের অর্ধেক গাদ্দাফির কাছের মানুষ, বাকি অর্ধেক নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেবী। এরকম একটা কনভয়ের অংশ হতে পারাটা, নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও শেষদিন পর্যন্ত গাদ্দাফির সাথে থাকতে পারাটা বিশাল ব্যাপার।
পরদিন অফিসে গিয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে লোকটার কাহিনী কলিগদের সাথে শেয়ার করলাম। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে ওরা সবাই হাসতে লাগলো।
কাহিনী কী? একজনে উত্তর দিলো, তুমি এই প্রথম এরকম মানুষের দেখা পেলা? আমরা তো প্রতিদিনই এই ধরনের মানুষের দেখা পাই। সিরতের অর্ধেক মানুষই দাবি করে, সেদিন তারা গাদ্দাফির সাথে ছিল।
এটা হচ্ছে একটা চিত্র। বিপরীতটাও সত্য। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যারা লড়েছিল, তাদেরও মূল সংখ্যাটা ছিল ছোট। কিন্তু গাদ্দাফির পতনের পর এরা সবাই থোওয়ার (বিপ্লবী) বনে যায়। পুরো যুদ্ধের সময় যারা ঘাপটি মেরে ছিল, তারাও গাদ্দাফির পতন নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠে নামে এবং বন্ধুবান্ধবদের সাথে নিয়ে একটা করে "কাতিবা" (ব্রিগেড) গঠন করে, যেন নতুন দেশের সব অন্যায় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা যায়।
লিবিয়ানরা এদেরকে বলে, থোওয়ার আশরিন-আশরা। অর্থাৎ ২০/১০-এর বিপ্লবী। ২০/১০ হচ্ছে ২০শে অক্টোবর। গাদ্দাফির পতনের তারিখ।
কাজেই বাংলাদেশেও যদি ভবিষ্যতে ৫ আগস্টের বিপ্লবীদেরকে সব ক্রেডিট দাবি করতে দেখা যায়, অবাক হবো না। এরকমই ঘটে।
যারা জেনুইনলি মাঠে নামে, তাদের অনেকেই মারা যায়, আহত হয়। বাকিরা লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর ঘরে ফিরে যায়। অনেকে যেই আশা নিয়ে নেমেছিল, সেটা অর্জিত হতে না দেখে হতাশ হয়ে পড়ে। টিকে থাকে সুবিধাবাদীরা। বা প্রফেশনাল পলিটিশিয়ানরা।
গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়াতে দুই বিয়ের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে হয়তো সর্বোচ্চ চার বিয়ের ধুম পড়বে। কিন্তু এরকম ক্যালেঙ্কারিয়াস পরিস্থিতি যে হবে, সেটা স্বপ্নেও আশা করি নাই।
পোলাপান চার না, পাঁচ না, ছয়ও না; একেবারে সাত কন্যার দিকে কুদৃষ্টি দিচ্ছে। তাও আবার একই পরিবারের সাত বোনের দিকে। ছিঃ আমরা কি এরকম স্বাধীনতা চেয়েছিলাম?
১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার কিছু নাই। ঐ হত্যাকাণ্ডে নারী-শিশুকেও হত্যা করা হয়েছিল।
তাছাড়া, ওরকম একটা হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল বাংলাদেশের জন্য ভালো না হয়ে খারাপ হয়েছে কি না, হাসিনা কি ঐ হত্যাকাণ্ডের কারণেই সাইকোপ্যাথে পরিণত হয়েছিল কি না, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে, বাঙালিকে ঘৃণা করতে শুরু করেছিল কি না, এগুলোও চিন্তা করার বিষয়।
সবচেয়ে বড় কথা, ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড জনগণ ঘটায়নি। ঘটিয়েছে কতিপয় সেনা অফিসার। তাদের উদ্দেশ্য কতটা জনকল্যাণ ছিল, আর কতটা পার্সোনাল প্রতিশোধপরায়ণতা ছিল, এগুলোও আলোচনার বিষয়।
এসব কিছু মিলিয়ে ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডে আমি উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু খুঁজে পাই না। বরং আমার মনে হয়, সামরিক অভ্যুত্থানের তুলনায় গণআন্দোলনে সরকারের পতন হওয়া এবং ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারকে হত্যা না করে এরপর বিচারে তুলতে পারাটা দীর্ঘমেয়াদের জন্য বেটার। তাতে রক্তপাত কিছুটা বেশি হলেও।
কিন্তু এর বিপরীতে ১৫ই আগস্ট নিয়ে যে কাঁদো বাঙালি কাঁদো প্রজেক্ট চালু হয়েছিল, সেটাও সমর্থন করার কিছু না। এইসব বাড়াবাড়ির পরিণতি আমরা দেখেছি - হায় মুজিব, হায় মুজিবের মতো হাস্যকর আহাজারি থেকে শুরু করে শোকের নামে হিন্দি গান বাজানো, এমন কিছু নাই, যা এই কয় বছর হয়নি।
এবং সবচেয়ে বড় কথা, শেখ মুজিবকে ৭১-এর পর, বাংলাদেশের "স্বাধীনতা এনে দেওয়ার" পর হত্যা করা হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছিল সে স্বৈরাচার হয়ে ওঠার পর। তার হাত বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হওয়ার পর। সুতরাং এরকম বিতর্কিত লিগ্যাসির একজন রাষ্ট্রনায়কের এবং তার পরিবারের মৃত্যুর শোক আমাদের "জাতীয় শোক" হতে পারে কি না, সেটাও ভ্যালিড প্রশ্ন।
তারপরেও, শান্তিপূর্ণভাবে যদি ক্ষমতার পালাবদল হতো, এবং এরপর যদি বিএনপি বা জামাত এসে ১৫ই আগস্টের ছুটি বাতিল করত, তাহলে আমি হয়তো সেটার বিরোধিতাই করতাম। অনেক কিছু অন্যায় এবং অনুচিত হলেও সবসময় বাতিল করার সংস্কৃতি খুব একটা ভালো ফলাফল দেয় না।
কিন্তু এবার সেটা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেনি। ঘটেছে শতশত মানুষের রক্তের বিনিময়ে। এবং এরফলে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, জুলাই মাসে যে শতশত নিরাপরাধ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে, যে শতশত মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, তাদের সম্মিলিত শোক অবশ্যই একটা পরিবারের শোকের চেয়ে বেশি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাই ১৫ই আগস্টকে জাতীয় শোকদিবস রাখার এবং ছুটি বহাল রাখার কোনো অর্থ হয় না। এটা বহাল রাখলে সেটা হতো পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের নামে বিপ্লবের প্রতি অসম্মান।
আমাদের জাতীয় শোকদিবস হতে হবে জুলাই মাসের কোনো একদিন। প্রেফার্যাবলি, জুলাই মাসের ১৯ তারিখ।
নিরপেক্ষতা বা সমতা এবং ন্যায়বিচার এক জিনিস না।
বিএপনির সমালোচনা অবশ্যই করা হবে। অনেক এলাকায় বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এগুলোর প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ফিরে আসার পর এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিএনপি যদি ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, সেটা শুরুতেই ঠেকিয়ে দিতে হবে।
আমি নিজেও বিএনপির সমালোচনা শুরু করেছি। গতকালই বিএনপির সমালোচনা করে বানানো শাহেদ আলমের ভিডিও শেয়ার দিয়েছে।
কিন্তু এই মুহূর্তে যেটা চলছে - যেই সাইকোপ্যাথ মাত্র দুই দিন আগেই শতশত মানুষকে খুন করে, দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ইনস্টিটিউশনগুলো ধ্বংস করে পালিয়ে গেছে, তার বিরুদ্ধে যতটুকু সমালোচনা, তার বিরুদ্ধে যতগুলো মিম, ক্যারিকেচার, তার চেয়ে মৃত্যুপথযাত্রী এক মহিলার ভ্রু নিয়ে বেশি ট্রোল, বেশি মিম, বেশি ক্যারিকেচার, এটা কোনোভাবেই "নিরপেক্ষতা" না, সমালোচনার "সমতা" না।
এটা শিয়ার ইনজাস্টিস। এবং এটা একইসাথে খুবই অস্বাভাবিক। বিশেষ করে রক্তের দাগ যখনও শুকায় নাই, হত্যাকাণ্ডগুলোর যখনও বিচার হয় নাই, নিখোঁজদের যখনও খোঁজ পাওয়া যায় নাই, রাস্তায় বাস্তবে যখনও হাসিনার রেজিমের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয় নাই, সেখানে ফেসবুকে যখন সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায়, সেটা খুবই অস্বাভাবিক।
এটা হাসিনার রেজিমের ডীপ স্টেটের পাওয়ারকেই ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ। এটা প্রতিবিপ্লবের প্রচেষ্টার অংশ।
আপনি যদি মনে করেন, বিপ্লবের পর কেউ প্রতি-বিপ্লবের চেষ্টা করছে না, যেই মিলিটারি ডীপ স্টেট এত বছর ধরে শতশত কোটি টাকা কামিয়েছে, গুম-খুনের নেতৃত্ব দিয়েছে, এখন বিপ্লব সফল হলে তাদের সব অর্জন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, যাদের ফাঁসিতে ঝোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে, তারা প্রতিবিপ্লবের চেষ্টা না করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে, তাহলে আপনি বাস্তবতা বোঝেন না।
সোশ্যাল মিডিয়া অনেক সময়ই আপনি নিয়ন্ত্রণ করেন না। এখানে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাষ্ট্রের ডীপ স্টেটের, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোর্ডিনেটেড প্রচেষ্টা চাইলেই বিভিন্ন পেজ থেকে রসালো, ইন্টারেস্টিং পোস্ট দিয়ে অনেক কিছুকে ভাইরাল করতে পারে। এবং এখানে সেটাই হচ্ছে।
এর উদ্দেশ্য কী? বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সাথে একই মাত্রার অপরাধী প্রমাণ করা। এমনভাবে করা, যেন "আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত - কোনোটাই চাই না, সবগুলো নিষিদ্ধ করা হোক" টাইপের ন্যারেটিভকে জনপ্রিয় করা যায়। এবং এর মাধ্যমে যেন বিএনপির ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ করে ডীপ স্টেটের স্বার্থ রক্ষাকারী কাউকে ক্ষমতায় আনা যায়।
এই সময়ে সবচেয়ে সতর্ক থাকতে হবে এই প্রচেষ্টাগুলোর বিরুদ্ধে। না, আপনি বিএনপিকে না চাইতেই পারেন - ইউ হ্যাভ এভ্রি রাইট। নির্বাচনের আগে যদি সমন্বয়করা রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে, আপনি তাদেরকেই ভোট দিয়েন। কিন্তু বিএনপিকে ভিলিফাই করার মধ্য দিয়ে যেন হাসিনার শাসনামলে গজিয়ে ওঠা ডীপ স্টেটের লোকেরা ক্ষমতায় ফিরতে না পারে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ দৃষ্টি রাখতে হবে।
মুভি রিভিউ, মুভি নিউজ আপডেট চ্যানেল।
Last updated 1 year, 11 months ago
Journalist Sorwar Alam's official Telegram channel.
YouTube.com/SorwarAlam
fb.com/BanglaSAT
twitter.com/Sorwar_Alam
Last updated 2 months, 1 week ago
ডেইলি চাকরীর খবর, সিলেবাস, বিগত প্রশ্ন:
www.gktodaybengali.in
Last updated 3 weeks, 1 day ago